দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক
-
প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নাটোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে লাইসেন্সবিহীন মৎস্য খাদ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানের দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ।
মোঃ ইমরান আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর।
নাটোর শহরের বলারী পাড়ায় পরিচালিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে লাইসেন্সবিহীনভাবে পরিচালিত একটি মৎস্য খাদ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই) নাটোর শাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই) নাটোর শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "গত ছয় মাস ধরে এই অনুমোদনহীন কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুমোদনবিহীন মৎস্য খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের প্রমাণ পাওয়ার পর যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।"
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মোঃ সাদ্দাম হোসেন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নাটোর। তিনি বলেন, "এই মৎস্য খাদ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদিত লাইসেন্স ছিল না। পণ্যগুলোর গুণগত মান যাচাই করার জন্য সেগুলো ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে।"
তিনি আরও জানান, পণ্যগুলোর মান খারাপ বা ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মৎস্য কর্মকর্তা এ বিষয়ে আইনগত মামলার উদ্যোগ নেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাটোর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, "মৎস্য সংশ্লিষ্ট কোনো পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি আবশ্যক। এই অনুমতি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৎস্য খাতকে সুরক্ষিত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে অভিযানের সময় দেখা গেছে যে, রি-প্যাকেজিং করার সময় এ পণ্যগুলোর জন্য কোনো ধরনের আমদানি অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ধরনের কার্যক্রম আইন বহির্ভূত এবং এটি মাছের খাদ্য চক্র ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "পণ্যগুলোর বৈধতা এবং মান যাচাই করার জন্য সেগুলো ল্যাবরেটরি টেস্টে পাঠানো হবে। যদি এগুলো মানহীন বা ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, তাহলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো মাছ চাষিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সঠিক মানের পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।"
তিনি জানান, "বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য সঠিক অনুমতি নিয়ে বাজারজাত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কারও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আমরা এ বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি চালাব এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে মৎস্য খাদ্য বাজারজাত করছিল। এ কারণে এটি মাছের খাদ্য চক্র এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায় এবং বাজারে সঠিক মানের পণ্য নিশ্চিত করা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :