ad728

বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে প্রতারণা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে প্রতারণা: ঢাকার এস, থ্রি লাইফস্টাইলসহ বেশ কিছু ক্লথ স্টোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

মোঃ ইমরান আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।

বাংলাদেশে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, এবং এ ক্ষেত্রে নতুন কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে নামিদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে পোশাক বিক্রি। সম্প্রতি ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লথ স্টোর, বিশেষ করে এস, থ্রি লাইফস্টাইলসহ বেশ কিছু দোকানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তারা আন্তর্জাতিক নামিদামি ব্র্যান্ডের লেবেল ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের পোশাক বিক্রি করছে, যা ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল।

এস, থ্রি লাইফস্টাইলসহ এ ধরনের স্টোরগুলোতে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়বে জারা, প্রাডা, টম টাইলর, টমি হিলফিগার,কিং ফিশার, অ্যাডিডাস, কিংবা নাইকির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের লোগো এবং ডিজাইন। স্টোরের কর্মীরা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন, এসব পণ্য সরাসরি বিদেশ থেকে আমদানি করা। কিন্তু ভোক্তাদের অনেকেই পরবর্তীতে বুঝতে পারেন, এসব পণ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং নিম্নমানের।

অনেক ক্ষেত্রে স্টোরগুলো মূল ব্র্যান্ডের কাছাকাছি লোগো ব্যবহার করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে। পণ্যের দামও বিদেশি ব্র্যান্ডের সমতুল্য রাখা হয়, যাতে ক্রেতাদের মনে হয় তারা আসল পণ্য কিনছেন।


মিরপুরের বাসিন্দা তামান্না আক্তার সম্প্রতি এস, থ্রি লাইফস্টাইল থেকে একটি পোশাক কিনেছিলেন। কর্মীরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, এটি তুরস্ক থেকে আমদানি করা আসল জারা ব্র্যান্ডের পোশাক। কিন্তু পোশাকটি ব্যবহারের এক সপ্তাহ পর সেলাই খুলে যায়। তিনি পোশাকটির লেবেল পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, এটি আসলে স্থানীয়ভাবে তৈরি।

একইভাবে, গুলশানের এক ক্রেতা জানান, তিনি অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের একটি টি-শার্ট কিনেছিলেন। পরে পণ্যটি পরীক্ষা করে দেখেন, ট্যাগে লেখা বারকোড ভুয়া এবং অ্যাডিডাসের মূল ওয়েবসাইটে সেটির কোনো অস্তিত্ব নেই।


বিদেশি ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করার ফলে ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পোশাকের গুণগত মান প্রত্যাশিত না হওয়ায় তাদের অর্থের অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে, আসল ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

এ ধরনের প্রতারণা দেশের বাজার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও এ বিষয়ে অভিযোগ করতে পারে, যা বাংলাদেশের বাজারের প্রতি তাদের আস্থা কমাতে পারে।


এস, থ্রি লাইফস্টাইলসহ অন্যান্য ক্লথ স্টোরের বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগ বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রতারণা বন্ধে প্রয়োজন ভোক্তা অধিকার আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং বাজার তদারকি বৃদ্ধি। পাশাপাশি, ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে এবং প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একসঙ্গে কাজ করলে এই ধরনের প্রতারণা রোধ করা সম্ভব এবং দেশের বাজার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ