ad728

বর্ধিত ভ্যাটের প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

নাটোরে বর্ধিত ভ্যাটের প্রতিবাদে মহাসড়কে টমেটো ফেলে কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ।

মোঃ ইমরান আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর।

কৃষিপণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে নাটোরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন টমেটো চাষিরা। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বেলঘড়িয়া বাইপাস এলাকায় নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে টমেটো ফেলে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঢাকা ও রাজশাহীগামী শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।


বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, টমেটো ও আমের পাল্পের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় অ্যাগ্রো প্রতিষ্ঠানগুলো টমেটো কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অত্যন্ত কম। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে টমেটো চাষ করলেও তা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে না, ফলে কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ‘বর্ধিত ভ্যাট-শুল্ক প্রত্যাহার কর, কৃষকের জীবন বাঁচাও’ স্লোগান দেন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকার কৃষির উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে কৃষকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কৃষি খাতের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে কৃষকদের আরও সংকটে ফেলা হচ্ছে।


প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকরা মহাসড়কের ওপর টমেটো ফেলে দেন, ফলে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।


বিক্ষোভ চলাকালে কৃষক নেতা সৈয়দ আলী, নাজির উদ্দিন বাবু, আমানউল্লাহ, হাফিজুর রহমান, মইনুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, "কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা। মাঠের ফসল পচে যাচ্ছে, অথচ আমাদের শ্রমের ন্যায্য দাম মিলছে না। সরকার যদি অবিলম্বে বর্ধিত ভ্যাট-শুল্ক বাতিল না করে, তাহলে আমরা আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেব।"

নেতারা আরও জানান, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষিকে ধ্বংস করে শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা বলেন, "আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, কৃষকের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে টমেটো ও আমের পাল্পের ওপর আরোপিত বাড়তি কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।"

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রিপন বলেন, "আমাদের মাঠের টমেটো পচে যাচ্ছে, অথচ ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। এত কষ্ট করে চাষ করি, কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও তুলতে পারছি না। সরকার যদি দ্রুত ভ্যাট-শুল্ক কমিয়ে কৃষকদের বাঁচানোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।"




বিক্ষোভের ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, "আমরা কৃষকদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করি, তবে এই ধরনের অবরোধ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। কৃষকদের দাবির বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে আর কোনো আন্দোলন করতে না হয়।"


এ বিষয়ে কথা হয় দুইজন কৃষি বিশেষজ্ঞর সাথে তাঁরা বলছেন, কৃষিপণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ কৃষি খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যদি সরকার ভ্যাট-শুল্ক কমিয়ে কৃষি খাতকে সহায়তা না করে, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


টমেটো চাষিদের এ আন্দোলন কৃষি খাতের বর্তমান সংকটের একটি প্রতিচিত্র তুলে ধরেছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকার তাদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। কৃষি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণ করা জরুরি, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানো যায়।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ