নওগাঁর ১১টি উপজেলার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকশূন্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
-
প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নওগাঁর ১১টি উপজেলার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকশূন্য
সাইফুল ইসলাম, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :
নওগাঁর ১১টি উপজেলার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ জেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৪ টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে ৫৯৭ টি। এছাড়াও জেলায় সহকারী শিক্ষকের ৭ হাজার ৩৩৫ টি পদের মধ্যে পদ শুন্য রয়েছে ৯৮ টি। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয় গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনমতে কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার আত্রাই উপজেলায় মোট প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩০ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৬৩ টি, ধামইরহাটে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১১২ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৪৯ টি, নওগাঁ সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩৯ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৬৬ টি, নিয়ামতপুরে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১২৮ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৫২ টি, পত্নীতলায় প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩৪ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৫৯ টি, পোরশায় প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৭৮ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৪৩ টি, বদলগাছীতে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩৩ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৬৩ টি, মহাদেবপুরে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩৫ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৩৩ টি, মান্দায় প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৮০ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৭৮ টি, রাণীনগরে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ১০০ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৪৩ টি, সাপাহারে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৯৬ টি এরমধ্যে শুন্য রয়েছে ৩৮ টি।
নওগাঁর শিক্ষানুরাগীরা বলেন, বিদ্যালয় গুলোতে প্রধান শিক্ষকের অভাবে সহকারী শিক্ষক দিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কোনো রকমে দায়সারা ভাবে চলছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম। এতে করে ক্ষতিতে পরছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জেলার এ শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীরা।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ৩৫ নং সরকারি প্রাধমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সবুজ হোসেনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের অভাবে শ্রেণিকক্ষে শুধু যে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে শুধু তাই-ই নয়, শিক্ষকদেরকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা মূলত সহকারী শিক্ষক। অনেক সময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। সে ক্ষেত্রে পাঠদান করানো বিঘ্নিত হয়। তাই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক সংকট নিরসন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
শিক্ষার্থীদের গুণগতমান নিশ্চিত করতে হলে শিগগিরই এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক মহল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে সভা, প্রশিক্ষণ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়া-আসা করতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন শ্রেণিকক্ষে শিশুদের পাঠগ্ৰহণ সম্পূর্ণ হয় না। অন্যদিকে তেমনি শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে ওঠে। নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে প্রধান শিক্ষকের প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন বিদ্যালয় পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে, অপরদিকে সিলেবাসের পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করাও অসম্ভব হচ্ছে। এ পদের বিপরীতে মামলা থাকায় এ পদ গুলোতে নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ মামলা গুলো শেষ এ পদ গুলোতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
আপনার মতামত লিখুন :