নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে সার চুরির অভিযোগ, প্রতারিত হচ্ছেন আখচাষিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
-
প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে সার চুরির অভিযোগ, প্রতারিত হচ্ছেন আখচাষিরা।
মোঃ ইমরান আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর।
নাটোরের লালপুরে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সার গুদামে শ্রমিকদের মাধ্যমে নিয়মিত সার চুরির অভিযোগ উঠেছে। আনলোডের সময় হুক দিয়ে বস্তা ছিদ্র করে প্রতি বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি সার সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই কম ওজনের সারই ঋণের মাধ্যমে আখচাষিদের সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে কৃষকরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে শ্রমিকদের এই পদ্ধতিতে সার চুরি করতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর আখ উৎপাদনের জন্য নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন চাষিদের ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার বরাদ্দ দেয়। চলতি বছর ৫ হাজার ৭০০ আখচাষির জন্য ৫ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঈশ্বরদী সার গুদাম থেকে ট্রলিতে করে মিলের গুদামে সার আনার সময়ই শ্রমিকরা চুরি করে নেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তারা মিল থেকে ঋণের ভিত্তিতে সার সংগ্রহ করেন এবং পরে আখ সরবরাহ করে সেই ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৪-৫ কেজি কম থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকরা অভিযোগ করেন, এ দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মদদেই এ অনিয়ম চলছে।
বৈদ্যনাথপুর গ্রামের কৃষক হানিফ আলী এবং দক্ষিণ লালপুর গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, প্রতিবছর একই সমস্যা হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা বলেন, হুক লাগার কারণে ওজন কিছুটা কম হয়। তবে কৃষকদের দাবি, সঠিক ওজনে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা প্রতারণার শিকার না হন।
এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ডেকে এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের মতে, শুধু আশ্বাস দিলেই হবে না, এই অনিয়মের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যাতে তারা ন্যায্য হারে সার পেয়ে আখ উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
আপনার মতামত লিখুন :