ad728

জামালপুরে বদলী বাবার দরবারে টাকা ছাড়া মিলেনি প্রাথমিক শিক্ষক বদলী


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

জামালপুরে বদলী বাবার দরবারে টাকা ছাড়া মিলেনি প্রাথমিক শিক্ষক বদলী

জামালপুরে অফিস আদালতে, সরকারী – বেসরকারী দপ্তরগুলোতে আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছে রাজাকার চরিত্র আড়ালে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীদার জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা।
সরকারী প্রত্যেক কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের সরকারী দলের প্রতিনিধি হিসেবে পরামর্শও দিতেব এই রাজাকার। সেই সম্পর্কে নিয়োগ বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা পকেটে পুড়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য করে ১৫ বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষক বদলীর ক্ষেত্রে শিক্ষাবিভাগে অলিখিত নিয়ম চালু হয়েছিল ছানা মিয়ার আশির্বাদ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক বদলি হয়না। শিক্ষকদের কর্ম কাঠামো অনুযায়ী বদলি হয়ে অন্য স্কুলে শিক্ষকতা করার অধিকার হরন করে কুক্ষিগত নিয়মের মেশিনে অর্থ কামাই করে গেছেন ফ্রি স্টাইলে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং বদলীতে শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্ধয়ে শক্তিশালী সিন্তিকেট গড়ে উঠেছিল।
সিন্ডিকেটটি এই বদলী বানিজ্য দেখভাল, শিক্ষক বদলীর তালিকা, অর্থ আদায়, শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রনসহ শিক্ষা বিভাগ থেকে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। টাকার অংক মোতাবেক সুবিধাজনক স্থানে বদলী হতো প্রাথমিক শিক্ষকদের।
ওই সিন্ডিকেট প্রধানের হাতে টাকা গুজে না দিলে প্রাথমিক শিক্ষক বদলীর আদেশের কাগজে সাইন করতে পারতোনা পনের বছরে দায়িত্বপালনকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।
প্রত্যেক প্রাথমিক শিক্ষক বদলি করতে নিত ৩ থেকে ৫ লাখ। ক্ষেত্র বিশেষে ভাল জায়গায় বদলী হতে ৮ হতে ১০ লাখও নিত।
বদলী বাবা ছানা মিয়ার দরবারে মোটা অংকের টাকা মানসিক না হলে নিয়ম অনুযায়ী বদলীর অফিসিয়ালী সুযোগ থাকলেও বছরের পর বছর ঘুরতে হতো সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বারান্দায় । ছানা মিয়া সিন্ডিকেটের দালালদের কাছে ধরনা দিতে হতো দিনকে দিন। এই শিক্ষক বদলী বানিজ্যের সিন্ডিকেটে ছিলেন আওয়ামী শিক্ষক নেতা তপনসহ শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুটিকয়েক প্রাথমিক শিক্ষক।
নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেও জড়িত থেকে নিজের খবরদারির ছুঁরি ঘুরিয়েছেন ছানা মিয়া।
সরকারী – বেসরকারী নানা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে মুখের বুলি আউরিয়েছেন রাজাকার ছানা মিয়া ।
ক্ষনতাধর প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বিনাভোট থেকে শুরু করে সকল ফ্যাসিবাদী কাজের দোসর ছানা মিয়া ৫ আগষ্টের পর আত্বগোপনে আছে।
কে এই ছানা মিয়া!
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীবতা বিরোধী রাজাকারের ভুমিকা পালন করায় ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এলাকা থেকে বিতড়িত হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে জামালপুরে আত্বীয়ের বাড়ী সৈয়দ বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
তিনি আত্বগোপনে থেকে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে আওয়ামীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ অলংকৃত করছেন বেশ কয়েকবার। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে বিশ্বস্ততার আস্থা অর্জন করেছিলেন।
সরকারী দলের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারী সকল কর্মকান্ডে অংশ নেয়ায় আমলা নেতা আবার কখনো ছানা মিয়াকে বলতো বদলী বাবা। বদলী বাবাকে আইনের আওতায় এনে শিক্ষা বিভাগে নিয়োগ- বদলী বানিজ্যসহ সকল অনিয়ম দূর্ণীতির তথ্য বের করে ছানামিয়া সিন্ডিকেটের সকল সদস্যদের বিচার দাবী করেছে ভুক্তভুগি শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।


জামালপুর থেকে জাকিরুল ইসলাম বাবু

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ